জাতীয়

তাহসিফ হত্যা মামলায় নতুন মোড়, দ্বিতীয় দফায় রিমান্ডে চাওয়া হলো দীপকে

বিমানবাহিনীর সাবেক ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট কে এম তাহসিফ সাউরি হত্যা মামলার তদন্তে নতুন পদক্ষেপ নিয়েছে পুলিশ। মামলার অন্যতম আসামি আহমেদ শাহরিয়ার রেজা দীপকে দ্বিতীয় দফায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সাত দিনের রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) ঢাকার আদালতে এ আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও নৌ পুলিশের টঙ্গী ফাঁড়ির পরিদর্শক ফিরোজ উদ্দিন।

রিমান্ড আবেদনে তদন্ত কর্মকর্তা উল্লেখ করেন, প্রথম দফায় চার দিনের রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদের সময় দীপ ঘটনার বিষয়ে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছেন। এসব তথ্য বর্তমানে যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে।

তদন্ত কর্মকর্তার দাবি, জিজ্ঞাসাবাদের সময় দীপ অত্যন্ত কৌশলী আচরণ করেছেন। তাঁকে বিভিন্ন প্রশ্ন করা হলেও তিনি কিছু প্রশ্নের উত্তর এড়িয়ে গেছেন এবং কিছু ক্ষেত্রে নীরবতা পালন করেছেন। এ কারণে ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদ্‌ঘাটন এবং পাওয়া তথ্যগুলো যাচাই করতে তাঁকে আবারও নিবিড়ভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করা প্রয়োজন।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী শামসুদ্দোহা সুমন বিষয়টি প্রথম আলোকে নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট হাসিবুজ্জামানের আদালতে মঙ্গলবার এই রিমান্ড আবেদনের ওপর শুনানি হওয়ার কথা রয়েছে।

এর আগে এই মামলায় গ্রেপ্তারের পর গত শনিবার দীপকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছিলেন আদালত। প্রথম দফার রিমান্ড শেষ হওয়ার পর এবার তাঁকে দ্বিতীয় দফায় জিজ্ঞাসাবাদের উদ্যোগ নিয়েছে নৌ পুলিশ।

আরও পড়ুনঃ তাহসিফের মৃত্যুর আগে তরুণীসহ দেড় ঘণ্টা বারে ছিলেন, সিসিটিভিতে নতুন তথ্য

এদিকে একই হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার হওয়া এক তরুণীও বর্তমানে চার দিনের রিমান্ডে রয়েছেন। গত রোববার আদালত তাঁর রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

মামলার বিবরণ অনুযায়ী, গত ২৭ অক্টোবর সন্ধ্যায় দীপের ডাকে বাসা থেকে বের হন সাবেক ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট কে এম তাহসিফ সাউরি। এরপর থেকে তিনি নিখোঁজ ছিলেন। পরদিন বিকেলে তুরাগ নদের রাজাবাড়ী ঘাট এলাকা থেকে তাঁর মরদেহ উদ্ধার করে নৌ পুলিশ।

এ ঘটনায় নিহত তাহসিফের বাবা কে এম এনায়েতুল করিম গত শুক্রবার রাতে রাজধানীর উত্তরখান থানায় অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের আসামি করে হত্যা মামলা দায়ের করেন।

মামলাটির তদন্ত চলছে। তবে তাহসিফ হত্যার পেছনে কী কারণ ছিল এবং কারা এ ঘটনায় জড়িত, তা তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে সংশ্লিষ্টরা।

সম্পর্কিত খবর

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button